
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল–আশুগঞ্জ–বিজয়নগরের দুই ইউনিয়ন) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা তাঁর মতবিনিময় সভায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতি নিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের পক্ষে প্রকাশ্যে ‘বৃদ্ধাঙ্গুল’ দেখালেও প্রশাসন ব্যবস্থা নেয় না—এমন অভিযোগ করে তিনি চটে যান।
শনিবার বিকেলে সরাইল উপজেলার ইসলামাবাদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহরিয়া হাসান খান রুমিন ফারহানার এক সমর্থক মো. জুয়েলকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।
জানা গেছে, শনিবার দুপুরে নোয়াগাঁও ইসলামাবাদ গ্রামের স্থানীয়রা রুমিন ফারহানার সঙ্গে একটি মতবিনিময় সভার আয়োজন করেন। সেখানে কোনো ব্যানার বা মাইক ব্যবহার করা হয়নি। রুমিন ফারহানা সভায় উপস্থিত হলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে মঞ্চ থেকে নেমে যেতে বলেন।
রুমিন ফারহানা বক্তব্য শেষ করে মঞ্চ থেকে নামলেও যাওয়ার সময় তিনি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান। ঘটনার একটি ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, “এক্সকিউজ মি স্যার… দিস ইজ দ্য লাস্ট টাইম আই ওয়ার্ন ইউ। আই উইল নট লিসেন টু দ্যাট।” এ সময় ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, আচরণবিধি লঙ্ঘন হলে ব্যবস্থা নিতে হবে। পাল্টা রুমিন ফারহানা বলেন, “সব জায়গায়ই হচ্ছে।”
এক পর্যায়ে তিনি আঙুল তুলে বলেন, “এইরকম দেখায় আপনাদেরকে। প্রশাসনে বসে আছেন, খোঁজ নেন।” তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের আচরণ তিনি আর সহ্য করবেন না।
এ বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহরিয়া হাসান খান বলেন, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের কারণে তাঁকে চলে যেতে বলা হয়। যাওয়ার সময় তিনি উত্তেজিত হয়ে পড়েন। আচরণবিধি ভঙ্গের দায়ে একজনকে জরিমানা করা হয়েছে।
সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আবুবকর সরকার জানান, নির্বাচনী আচরণবিধি ২০২৫-এর ১৮ ধারায় জরিমানার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেন, তিনি আশা করেন নির্বাচনে প্রশাসন ও পুলিশ নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করবে এবং কোনো পক্ষপাতমূলক আচরণ করবে না। তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর আচরণবিধি লঙ্ঘনের কিছু ছবি সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদকের কাছে পাঠিয়েছেন বলেও জানান।